প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা প্রতারণার দায়ে ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী আটক
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ ও প্রধানমন্ত্রীর নামে কটূক্তি করার অভিযোগে পঞ্চগড়ে এক ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম হুসেন আলী (৩৫)। তার বাড়ি জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগড় ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামে। সে ওই গ্রামের শুকুরু মিয়ার ছেলে।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে পঞ্চগড় থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আবু আক্কাস আহমদ।
পুলিশ ও মামলার অভিযোগে জানা যায়, করোনাভাইরাস মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় পরিবার হিসেবে জেলার সদর উপজেলার পঞ্চগড় ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের হামিদুল ইসলামের স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিনের মোবাইলের বিকাল নম্বরে আড়াই হাজার টাকা অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়। গত ২৪ মে টাকাটি তার মোবাইলে আসে। পরদিন ২৫ মে হামিদুল ওই মোবাইল নিয়ে জেলার সদর উপজেলার জগদল বাজারের ফ্লেক্সি লোড ব্যবসায়ী ও বিকাশের এজেন্ট মেসার্স স্বপন ইলেকট্রনিক্সে হুসেন আলীর কাছে নিয়ে যান। ২০ মিনিট ধরে মোবাইল নাড়াচাড়ার পর হুসেন হামিদুলকে জানান, তার মোবাইলে টাকা আসেনি। পরে সে তার স্ত্রীকে জানায় মোবাইলে টাকা আসেনি। এরপর সাবিনা বিষয়টি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের জানালে তারা গিয়ে দেখতে পান হুসেন টাকাটি ক্যাশ আউট করে নিয়েছে।
এ নিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে তার তর্কও হয়। এ সময় হুসেন আলী প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে কটূক্তিও করে।
খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম রব্বানী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আমিনুল ইসলাম পুলিশসহ ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে উভয়পক্ষের কাছে বিষয়টি শুনেন। এসময় জগদল বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মানিক খান আড়াই হাজার টাকা ইউএনও মো. গোলাম রব্বানীর হাতে দেন। ইউএনও ওই টাকা সাবিনা ইয়াসমিনের হাতে তুলে দেন। পরে পুলিশ ফ্লেক্সিলোড ব্যবসায়ী হুসেন আলীকে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনায় সাবিনা ইয়াসমিনের স্বামী হামিদুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে পঞ্চগড় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।